জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক রশিদুল আলম।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে। তাই ফলাফল পেতে আগামীকাল সকাল বা দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’
এদিকে ভোট শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা আগেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ছাত্রদল ভোট বর্জন করেছে।’
শুধু ছাত্রদলই নয়, নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করেছে আরও কয়েকটি সংগঠন। ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের অংশীদার প্যানেল ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্জন ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও।
ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ও নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এবারের জাকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন মোট ১১ হাজার ৭৪৭ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে নয়জন, জিএস পদে নয়জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ছয়জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে মোট ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টি ছাত্রী হল ও ১১টি ছাত্র হল। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন সহকারী পোলিং কর্মকর্তা।
কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে ভোটাররা মোট ৪০টি ব্যালটে ভোট দেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন ছিলেন প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য।


