মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এর প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ডিজেল ও গ্যাসোলিন আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চুক্তির বাইরে গিয়ে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন কেনা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
রোববার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির জন্য অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। যদিও চলতি মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের তেমন কোনো সংকট হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ১৭টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজের জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে। আরও ছয়টি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং সাতটি এলসির জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আগামী এপ্রিল মাসের জন্য ১৫টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি পার্সেল সরবরাহে সম্মতি পাওয়া গেলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে মাত্র তিনটি জাহাজের বিষয়ে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন ও জাপানের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির বাইরে গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। এ জন্য মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
যাচাই–বাছাই শেষে সৌদি আরবের কোম্পানি পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল করপের কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন ৯৫ কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আমদানির পাশাপাশি দেশীয় কূপ খনন কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন যোগান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


