বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক রূপকথার জন্ম দিল বাংলাদেশ। ইউরোপের দেশ সান মারিনোকে হারিয়ে এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে সান মারিনোর রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসা বাংলাদেশ একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে। গতি, নিখুঁত পাসিং আর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মেলবন্ধনে ঐতিহাসিক এই জয়টি নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন আধিপত্য বিস্তারকারী জয় দেশের ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এই ঐতিহাসিক জয়টি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়নি, বরং বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে করেছে আরও গৌরবোজ্জ্বল।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের উল্লাস আর মাঠের খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা আনন্দই বলে দিচ্ছিল, এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়—এটি বাংলাদেশের ফুটবলের এক নতুন যুগের সূচনা।
শুক্রবার সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়, যা প্রধান কোচ হিসেবে থমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচেই জয় এনে দিল।
তপু বর্মন ম্যাচের দুটি গোলই করেন। ১৯তম মিনিটে শেখ মোরসালিনের ক্রস থেকে হেড করে প্রথম গোলটি করার পর, ৮৬তম মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষের পাস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ উচ্চ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্বাগতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং সাদ উদ্দিন উইংয়ে দারুণ চাপ তৈরি করেন, আর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী ও সোহেল রানা সিনিয়রের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়া দেখান। এই ধারাবাহিক চাপের মুখে ১৯ মিনিটে মোরসালিনের ক্রসে তপুর নিখুঁত হেডে লিড নেয় বাংলাদেশ।
তবে সান মারিনো পাল্টা আক্রমণ থেকে সমতায় ফেরে। ৩১তম মিনিটে ফিলিপ্পো বেরার্দির রক্ষণভেদ করা পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমাকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-১ করেন নিকোলাস গিয়াকোপেত্তি।
সমতা ফেরার পর বাংলাদেশ তাদের শুরুর ছন্দ কিছুটা হারিয়ে ফেলে। ২৫ মিনিটের পর থেকেই তারা ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয়, যার সুযোগ নিয়ে সান মারিনো ম্যাচে আধিপত্য বাড়াতে থাকে এবং প্রথমার্ধের বাকি সময়ে বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। ৩৭তম মিনিটে সাদ উদ্দিন ডিবক্সের ভেতর থেকে একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন, তার শটটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সান মারিনোকে বেশ গোছানো দেখায়। ম্যাচের গতি ফেরাতে কোচ ডুলি বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। প্রথমার্ধের তুলনায় জায়গা কম পেলেও সফরকারী বাংলাদেশ ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক চার মিনিট আগে আসে জয়সূচক গোলটি। বিশ্বনাথ ঘোষের পাস থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডার তপু বর্মন আবারও হেডের সাহায্যে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন, যা ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২১১তম স্থানে থাকা সান মারিনোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী দল হিসেবে ম্যাচটি শেষ করে এবং কোচ থমাস ডুলি একটি জয় দিয়ে তার নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।


