সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে প্রসিকিউশন আদালতে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৫ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করার মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। সেই বক্তব্যে প্রসিকিউশন জয় এবং পলককে জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসত জয়ের কাছ থেকে এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন পলক। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
তবে আসামিপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পলকের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ পলক দেননি, বরং এই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং গুজব প্রতিরোধে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে জয় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, অপর আসামি পলক গ্রেপ্তার আছেন। এদিন শুনানির জন্য তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে অভিযোগ গঠনের জবাবেও তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয়। ওই দিন জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং পলককে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


