জয়ের পর নির্ভার মার্কিন তারকা বালোগান

জয়ের পর নির্ভার মার্কিন তারকা বালোগান
Advertisement
Advertisement

বিশ্বকাপ অভিষেকেই করেছেন জোড়া গোল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান এখনই বুনো উল্লাসে মেতে উঠতে রাজি নন। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, নেটফ্লিক্সের পর্দায় চোখ রেখেই নিজের এই ঐতিহাসিক রাতটি শেষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে দুটি গোল করেন বালোগান। এর মধ্যে একটি ছিল দুর্দান্ত বাঁকানো শটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের একেবারে বাঁ-কোণ দিয়ে করা চমৎকার এক গোল। তার এই জোড়া গোলের ওপর ভর করেই সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ ব্যবধানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের আদর্শ সূচনা পেয়েছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের বালোগান বলেন, ‘সত্যিই একটা স্বপ্ন, জানেন? এটা একটা স্বপ্নের মতো রাত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যাচ শেষের পর এখনো সবকিছু পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারছি না… আমি নিশ্চিত, যখন হোটেলে ফিরব এবং বিশ্রাম নেব, তখন এই মুহূর্তটি নিয়ে ভাবার সুযোগ পাব। বুঝতে পারব, কতটা অসাধারণ একটি রাত কাটালাম।’

উদযাপনে কী করবেন—জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্তর দেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমি সম্ভবত স্রেফ কিছুটা সময় নেটফ্লিক্স দেখব।’

বালোগানের জন্ম নিউইয়র্কে হলেও মাত্র এক মাস বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং লন্ডনেই বড় হন। দুই দেশেই তার আত্মীয়স্বজন রয়েছে, যাদের অনেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

‘প্রচুর আত্মীয় ছিল, জানেন!’ রসিকতা করে বালোগান বলেন। তিনি আরও জানান, আটলান্টিকের দুই পাড়ের (যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য) স্বজনদের জন্য অসংখ্য টিকিটের ব্যবস্থা করার বড় দায়িত্বটি তার ওপরেই চেপেছিল।

আরও পড়ুন

তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। বালোগান বলেন, ‘আমি আনন্দের সাথেই এটি করেছি, কারণ জীবনে এমন সুযোগ একবারই আসে।’

আর্সেনালের একাডেমি থেকে উঠে আসা বালোগান বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দলের হয়েই খেলেছেন। এরপর তিনি ধারে ফরাসি ক্লাব রেমসে খেলতে যান, যেখানে তার ক্যারিয়ারে এক নতুন মোড় আসে। গত বছর প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউরোর দলবদল চুক্তির পর মোনাকোর হয়ে ১৯ গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি।

ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে তার প্রথম মৌসুমটি নজর কাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের, যারা দীর্ঘদিন ধরে একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল। মার্কিন স্কাউটরা রীতিমতো রাজকীয় আয়োজনে ফ্লোরিডা ভ্রমণ এবং এনবিএ বাস্কেটবল ম্যাচের ভিআইপি টিকিটের ব্যবস্থা করে তাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালায়, যা বেশ সাড়া ফেলেছিল।

২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমেরিকান ফুটবল ভক্তরা তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছিলেন।

শুক্রবার বালোগান বলেন, ‘আমি যখন সিদ্ধান্ত নিই এবং এই পর্যন্ত আসার পুরো পথচলায় সবসময়ই বলেছি যে, সমর্থকেরা আমাকে দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এবং অনেক ভালোবাসা দেখিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া। তাই আমার মনে হচ্ছে আজকের দিনটি ছিল সেই চমৎকার সুযোগ… আমি স্রেফ সমর্থকদের দেখিয়ে যেতে চাই যে আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম।’

বালোগানের সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দল ‘তাঁকে পেয়ে সত্যিই ভাগ্যবান।’

পুলিসিকের ভাষায়, ‘ছেলেটা অবিশ্বাস্য। গোলপোস্টের সামনে এই মুহূর্তে সে মারাত্মক বিপজ্জনক… আশা করি এটা যেন এভাবেই চলতে থাকে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad