নারীর স্বাস্থ্য ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি যত্নশীল হওয়া যেমন সামাজিক দায়িত্ব, তেমনি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পূর্ণ হয় না।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে ‘জয়েনিং হ্যান্ডস ফর ইম্প্রুভিং উইমেনস হেলথকেয়ার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় এলাকায় নারীরা লবণাক্ততা, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও প্রজননজনিত নানা জটিলতার মুখোমুখি হন। এসব অঞ্চলে তাদের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল ক্লিনিক বা নৌকা হাসপাতালের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ চালু করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প বা উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকায় যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, তারা আসলে মানবিকতার ফ্রন্টলাইনে কাজ করছেন।’
নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যকে সামাজিকভাবে ‘নিষিদ্ধ’ ভাবা ভুল উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যবিধি, প্রজনন স্বাস্থ্য ও আত্মসচেতনতা সম্পর্কে শেখানো দরকার। নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতা নয়, দরকার সচেতন আলোচনা।’
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, ‘দেশে এখনো প্রজনন স্বাস্থ্য বা মাতৃত্বকালীন যত্ন অনেকের জন্য বিলাসিতা। নারীকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
‘সমাজে নেগেটিভিটি ছড়ানো এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও ইতিবাচক চিন্তা। নারী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেই ইতিবাচকতার শক্ত ভিত গড়ে দিতে পারে’, যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফি আহমাদ এবং মেরি স্টোপস ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া ফারহানা দেওয়ান ‘ফিগো উইমেনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করায় তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।


