নদীবেষ্টিত মানিকগঞ্জে ২০০ বছরের পুরোনো নৌকার হাট জমে উঠেছে। নদীতীরের এই হাটের জন্ম ব্রিটিশ শাসনামলে আঠারো শতকের গোড়ার দিকে। বর্ষার শুরতে নদ-নদীতে পানি না থাকায় নৌকার বেচাকেনা কম থাকলেও সপ্তাহখানেক ধরে নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরীসহ ছোটবড় বেশ কয়েকটি নদীতে ঘেরা এই জেলায় জোয়ারের পানি বাড়লেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তাই এখানকার মানুষ আগেভাগেই নৌকার জোগাড় করে রাখেন।
জেলার এই বৃহত্তর হাটে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে নৌকার হাটটিতে বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের নৌকা উঠেছে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়িয়ে হাটসংলগ্ন ডিএন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠেও বেচাকেনা হচ্ছে।
ঘিওর হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ খান পাষাণ বলেন, ‘সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসা এ হাটে প্রায় এক থেকে দেড়শ নৌকা বিক্রি হয়।’
আকারভেদে প্রতিটি নৌকার দাম থাকে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি হাটে কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার নৌকা বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটির কর্মকর্তারা।
হাটের লোকজন জানান, প্রতিবছর বর্ষায় ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই বর্ষার শুরুতেই এ নৌকার হাটে কেনাবেচা বাড়তে থাকে।
খলসী গ্রামের নৌকা নির্মাতা ও বিক্রেতা নিমাই চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘আমাদেরে তৈরি নৌকা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও বিক্রি হচ্ছে। নৌকা তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আম, চাম্বল এবং রেইন্টি কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও সে তুলনায় দাম রাখা যাচ্ছে না।’
আশাপুর গ্রামের সমেজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি খুবই নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষায় নৌকার ছাড়া কোন উপায় নেই। তাই ঘিওর হাট থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় একটি বড় ডিঙি নৌকা কিনলাম।’
নৌকা বিক্রেতা জাবরা গ্রামের কানাই চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘১০ হাত লম্বা এবং আড়াই হাত প্রস্থের একটি নৌকার মূল্য পাঁচ হাজার টাকা। আকার ভেদে নৌকার দামের তারতম্য হয়। এ রকম ১১ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা ৬ হাজার, ১৩ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের একটি নৌকার দাম ৭ হাজার আর ১৫ হাত লম্বা ও ৩ হাত প্রস্থের নৌকা আট থেকে নয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’


