সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের জলদস্যু কাজল-মুন্না বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগর থানার গোবিন্দপুর ও আড়পাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই গ্রামের পরিতোষ রায়ের ছেলে বিপ্লব রায় (৩২), গোবিন্দপুরের মৃত চিত্তরঞ্জন মল্লিকের ছেলে সুব্রত মল্লিক (৪৩) ও কৌতুক বিশ্বাসের ছেলে লক্ষণ বিশ্বাস (৭০) নামে কাজল-মুন্না বাহিনীর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্যামনগর থানা সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন থেকে রমজাননগর এলাকার দুই জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সোমবার শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু। জলদস্যু পরিচয়ে ৯ জন অস্ত্রধারী গত ৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের পায়রাটুনি খাল থেকে তাদের অপহরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা নয়জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
ভুক্তভোগী জেলেদের বরাত দিয়ে আব্দুল হামিদ জানান, বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে সুন্দরবনে যায় রমজাননগরের ছয় জেলে। দুপুরের দিকে পায়রাটুনি খালে পৌঁছানোর পর কাজল-মুন্না বাহিনীর জলদস্যুরা তার এলাকার জেলে ওয়েজকুরুনি, বিজয় ধীবর, আব্দুস সালাম ও আব্দুল মজিদকে অপহরণ করে। মুক্তিপণের টাকা নির্দিষ্ট একটি বিকাশ নম্বরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে একদিন পরে দু’জনকে রেখে অন্যদের ছেড়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় সোমবার তিনি মামলা করেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মামলা দায়েরের পর প্রযুক্তির সহায়তায় যশোরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে আদায় করা মুক্তিপণের ৭৪ হাজার টাকাসহ নির্দিষ্ট বিকাশ নাম্বারের সিম ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি আরো জানান, মুক্তিপণের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।


