রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরীকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলার পর তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ওয়ারী থানার ১৫ নম্বর নারিন্দা রোডে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সুভাষ দেউরীর রুমমেট দুর্জয় সাহা জানান, রাতে ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পথেই একদল দুর্বৃত্ত সুভাষের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। হামলার পর হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় তিনি ঘটনাস্থলে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন।
সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও জানান দুর্জয়। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন থেকেই পরে সুভাষ দেউরীর বোন জয়ার কাছে ফোন করা হয়। অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোনে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির আহ্বায়ক প্রিয়ন্ত স্বর্ণকার বলেন, ‘সুভাষ দেউরী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।’
অবশ্য হাসপাতাল থেকে আহত সুভাষ জানান, কোনো কিছু ভালো না লাগলে তখন তিনি বাইরে একা একা হাটেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হন। রিকশা নিয়ে স্বামীবাগ যান। এরপর কি হয়েছে তিনি জানেন না।
সুভাষ বলেন, ‘আমার মাইগ্রেনের সমস্যার পর থেকে আমার কোনো কিছু বেশিক্ষণ মনে থাকে না। রাতে দেখি আমি একটি মেস বাসার ভিতরে। আমাকে আটকে রেখেছে ৭-৮ জন যুবক। তাদের দেখে মাদকাসক্ত মনে হয়েছে। বাসার ভিতর কয়েকজন ইয়াবা সেবনও করছিল। তারা আমাকে মারধর করতে থাকে। আমার কাছে মোবাইল মানিব্যাগ যা ছিল তা হাতিয়ে নেয়। মোবাইলের মেসেজ ঘেটে দেখে আমার ব্যাংক একাউন্টে এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা আছে। সেখান থেকে তারা ৩০ হাজার টাকা তুলে দিতে বলে। তবে আমার ফোনে ব্যাংকের এ্যাপ বা চেক বই সাথে ছিল না। সেজন্য তারা টাকা নিতে পারছিল না। তখন তারা আমার রুমমেটকে ফোন করিয়ে বিকাশে ছয় হাজার টাকা নেয়। এরপর আমার বোনকে ফোন করিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা নেয়।’
তিনি বলেন, ‘তাদেরকে আমি আমার পরিচয় দেইনি। বলেছি, আমি এই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করি। তবে আমার গলায় হিন্দু ধর্মের মালা থাকায় তারা বুঝে নেয় আমি হিন্দু। আমি মন্দিরের পুরোহিত সেটিও তাদেরকে বলিনি। এরপর সারারাত তারা আমাকে অনেক নির্যাতন করে। তারা আমাকে মেরে ফেলাসহ আরও অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা যোগার করতে বলে। এক পর্যায়ে আমি সেখান থেকে পালানোর পরিকল্পনা করি। কৌশলে তাদেরকে বলি আমাকে ছাদে নিয়ে যেতে। সেই ছাদ থেকে আমি কীভাবে বাইরে পড়ে গিয়েছি নাকি তারাই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তা বলতে পারছি না। পরে দেখি কেউ একজন আমাকে রিকশায় তুলে দিচ্ছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ওয়ারী থানাকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো জিডি বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


