অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা ‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছেন বলে যে বক্তব্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম দিয়েছেন, তা তাকেই খণ্ডন করতে হবে বলে মনে করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
উপদেষ্টাদের নিরাপদে প্রস্থান বা ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে চলা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রথম কথা বললেন সরকারের কোনো উপদেষ্টা।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে এ প্রসঙ্গ।
কারা সেফ এক্সিট খুঁজছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘তাকে (নাহিদ ইসলাম) তার বক্তব্যকে সাবস্টেনশিয়েট (প্রমাণ করা বা স্পষ্ট করা) করতে হবে। তার বক্তব্য তো আমার সাবস্টেনশিয়েট করার বিষয় না। আমার খণ্ডানোরও বিষয় না। তথ্য প্রমাণ উপাত্ত মানে বক্তব্যটা স্পেসিফিক হলে হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলা হতো।’
তিনি নিজে সেফ এক্সিট খুঁজছেন না জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একদম কোনো এক্সিট খুঁজছি না। দেশেই ছিলাম। এর আগেও বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা এসছে। ওই সব ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিহত করে দেশে থেকেছি। বাকিটা জীবনও বাংলাদেশেই কাটিয়ে যাবো আপনাদের সাথে।’
সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছে, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।’
এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বললেন, কিছু উপদেষ্টার সামনে মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার হঠাতে ছাত্র-জনতার যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন নাহিদ-সারজিসসহ অন্যরা। ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্রনেতাদের ইচ্ছাতেই এই সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। শুরুতে সরকারে যুক্ত ছিলেন নাহিদও।
তবে এনসিপি গঠনের পর দলের দায়িত্ব নিতে গত ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টা পদ ছাড়েন নাহিদ।
তার সাত মাস পেরোতেই একসময়ের সহ-উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে নিরাপদে প্রস্থান চেষ্টার অভিযোগ করলেন নাহিদ, যে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন তারই ‘সহযোদ্ধা’ সারজিস।
সেফ এক্সিট নিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী তা জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা নানান বিষয়ে নানান কথা বলে যাচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এটা বলা তো তাদের অধিকার। এটাই তো গণতন্ত্রের চর্চা। এখন প্রতিটা বিষয় নিয়েই যদি আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাই, প্রতিটা বিষয় নিয়েই যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে বলেন তো আমাদের মন্ত্রণালয়গুলো আমরা কখন চালাবো?’
‘যখন কোনো একটা বিষয় আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে তখন অবশ্যই সরকার সে বিষয় নিয়ে কথা বলবে, সে বিষয় নিয়ে কাজ করবে, সে বিষয় নিয়ে এঙ্গেইজড হবে, সে বিষয় নিয়ে সকলকে জানাবে।’
দেশে ক্রিয়াশীল সব রাজনৈতিক সঙ্গেই সরকারের কাজের সম্পর্ক আছে জানিয়ে রিজওয়ানা বলেন, ‘এটা উনি (নাহিদ) অভিমান থেকে বলেছেন নাকি উনার কোনো বিষয়ে গ্রিভেন্স (দুঃখবোধ) আছে। এ বিষয়গুলো উনাকেই পরিষ্কার করতে হবে। উনি যদি কখনো পরিষ্কার করেন, তখন সেটা নিয়ে সরকারের বক্তব্যের কথা আসে। সেটির আগে সরকারের বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই।’
ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি একদমই স্থিতিশীল আছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারই বলেছে তা নয়, সব রাজনৈতিক দলও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।’
নির্বাচনের আগে ছোট আকারে আরেকটা নির্বাচনকালীন সরকার হবে বলে যে আলোচনা উঠেছে তার সত্যতা সম্পর্কেও জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে রিজওয়ানা বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারই নির্বাচন করবে। এখন পর্যন্ত এটাই হচ্ছে অবস্থা এবং অবস্থান।’


