রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে হামলায় গুরুতর আহত ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে রাসেল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার সাত দিন পর বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম।
পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাসেলের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় রাসেলের স্ত্রী শিরীন আক্তার বাদী হয়ে শনিবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মোড়লকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন পিচ্চি রাকিব, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, পিচ্চি জুয়েল, মনির হোসেন, পাপ্পু, আসাবুর রহমান, লিমন, মামা সাইফুল, সোহেল, সুজন ওরফে কালা সুজন, আল আমিন, ছোট ফেরদৌস, জাফর, জসিম, ইমরান, খাইরুল, ইমরান হোসেন বায়েজিদ, উজ্জল, জীবন ও ফেরদৌস। এ ছাড়া, অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় মনির হোসেন শান্ত সামুরাই দিয়ে রাসেলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দেন। রাসেল হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান কনুই গুরুতর জখম হয়। একপর্যায়ে পাপ্পু চাপাতি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। ওই আঘাত ঠেকাতে গেলে তার বাম হাতের তিনটি আঙুল কেটে যায়।
এ ছাড়া, অন্য আসামিরাও চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে রাসেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
রাসেলের স্ত্রী শিরীন আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামী ব্যবসার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদেও মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। জাহিদ হোসেন মোড়ল তাকে প্রার্থী হতে নিষেধ করেছিলেন। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে হামলা করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার ঘটনাটি তদন্তনাধীন রয়েছে। আমরা কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। হামলার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কাজ করছে।’


