জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জনরায়কে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে। তবে সেটি করতে গিয়ে অসাংবিধানিক কিছু করা যাবে না। কারণ, বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, নির্বাচিত হয়েছে সংবিধানের মাধ্যমে। সংবিধান অনুযায়ীই শপথ নিয়ে কাজ শুরু করেছে এই সংসদ।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, রাষ্ট্র চলে সংবিধানের ভিত্তিতে, আইন দিয়ে।’
কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হচ্ছে না তা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আর্টিকেল ৭২ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিতে পারছেন না সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের। রাষ্ট্রপতিও তা আহ্বান করতে পারেন না বিধায় করেননি।’
এর আগে জামায়াত আমির তার বক্তব্যে জানতে চান, জুলাই জাতীয় সনদ অধ্যাদেশ অনুযায়ী কেন নির্বাচনের পর ৩০ পঞ্জিকাদিবস পেরিয়ে গেলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর স্বীকৃতি দেয় না। এ ধরনের পরিষদ গঠন করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান যদি বিষয়টি ধারণ করে তখনই তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা আলোচনা করি যে কখন সংবিধান সংশোধনের জন্য বিল উত্থাপন করতে পারব এবং জুলাই জাতীয় সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছি যে, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে আমরা সম্মান করি।’
কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কিনা সেটা একটা বিরাট আইনি প্রশ্ন উল্লেখ করে তা নিয়েও কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা ডিবেট করি, আলোচনা করি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা বিল উত্থাপন করি। সেই বিল সমঝোতার ভিত্তিতে এই মহান হাউজে গ্রহণ করি। তারপরে সেই সংবিধান অনুসারে এই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।’


