সংসদ ভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগার উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিদাতাদের একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছে নানা কিছুর পাশাপাশি পাওয়া গেছে একটি পেনড্রাইভ যাতে ‘অনেক কিছু’ আছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার হওয়া ২৩ বছর বয়সী মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত বলে শুক্রবার মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জেলার বড়লেখা থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অভিযানের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি দুর্গম টিলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাহেদ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’র সদস্য। তার বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদরদপ্তর থেকে যে সতর্কতা জারি করা হয়, তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান চালানো হয়।
সেই সতর্কতা জারির পর থেকে মাহেদ আত্মগোপনে ছিলেন।
ওসি মনিরুজ্জামান টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকিদাতাদের মধ্যে অন্যতম এই মাহেদ।
ওসি বলেন, ‘তার বিষয়ে অভিযোগ হলো, তিনি থ্রেট দিয়েছেন জাতীয় সংসদ, পিএমও, থানাভবন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগার উড়িয়ে দেবেন।’
‘আমরা আগে থেকেই অ্যালার্ট, গোপন সংবাদ ছিল, সে বড়লেখাতেই কোথাও একটু আছে’, বলেন তিনি।
মাহেদ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত–এই বিবেচনায় খুব সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করার কথাও জানান ওসি। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। জায়গাটি ছিল দুর্গম–জঙ্গলঘেরা এলাকা, তার ওপর বৃষ্টি হচ্ছিল। রাতভর এবং সকাল থেকে সারা দিন জঙ্গল পেরিয়ে অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে ধরা হয়।’
মৌলভীবাজার পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়, গ্রেপ্তারের পর যাচাই-বাছাইয়ে পুলিশ জানতে পারে, মাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা আছে। পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এখন এটি তদন্ত করছে।
মামলায় অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি হচ্ছেন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। শেরেবাংলা নগর থানায় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিটিটিসি বেশ কিছু আসামি ধরেছে। ওখান থেকে বেশ কিছু স্বীকারোক্তি এসেছে এবং বেশ কিছু ডকুমেন্টসও পাওয়া গেছে। সেগুলো নিয়ে সিটিটিসি দেখল, সে হলো মাস্টারমাইন্ডদের মধ্যে অন্যতম।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেল–এই প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘সিটিটিসি সঙ্গে ছিল তো। আমরা তেমন সময় পাইনি। তবে সিটিটিসি কিছু উপকরণ জব্দ করে নিয়ে গেছে।’
উপকরণ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘পেনড্রাইভ, পাসপোর্ট, ইসলামি বই, কিছু ছবি… পেনড্রাইভের মধ্যে অনেক কিছু ছিল।’
মাহেদ ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলেও জানান মনিরুজ্জামান।
তাকে সেনাবাহিনী কেন চাকরিচ্যুত করেছে, সে প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি ২০২৩ সালে ছুটিতে আসার পরে আর কাজে ফেরেননি। সেনাবাহিনীর নিজস্ব রুলস ও রেগুলেশন অনুযায়ী পরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, এটুকুই তিনি বলেছেন।’


