সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিশ্বাসযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের পক্ষ থেকে সারা দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়টিও গণমাধ্যমে এসেছে।
‘পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা তার ওপর আস্থা রাখতে চাই। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের অনুরোধ থাকবে, জঙ্গি সংক্রান্ত যে কোনো তদন্ত ও ব্যবস্থাপনায় যেন স্বচ্ছতা ও পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা হয়,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ‘জঙ্গি’ ইস্যুটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ইস্যু ব্যবহার করায় জনমনে নানা সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভিন্নমত দমনে এবং নিরীহ আলেম-উলামাদের ওপর অন্যায় নিপীড়ন চালাতে এই তকমা ব্যবহার করা হয়েছিল।
এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রে আড়ালে থেকে গেলেও সাধারণ ইসলামপন্থীরা জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে জঙ্গি দমনের সকল কার্যক্রম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমুক্ত এবং নির্মোহ তথ্যভিত্তিক হওয়া জরুরি।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও উল্লেখ করেন, জঙ্গিবাদ কেবল প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এটি মোকাবিলায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হলে অধিকতর কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি জঙ্গি সমস্যা সমাধানে আলেম-উলামাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। এতে তদন্তে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কমবে, তেমনি জনমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জঙ্গি ইস্যুকে সামনে রেখে কোনোভাবেই যেন কোনো নিরাপরাধ মানুষের ওপর জুলুম করা না হয়, সেদিকে সরকারকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।


