ছোট ভাইয়ের কবরে মাটি দিয়ে কাঁদছে আরবি

ছোট ভাইয়ের কবরে মাটি দিয়ে কাঁদছে আরবি
উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্বজনের উদ্বেগ। ঢাকার জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে তোলা ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তে অনেকের সঙ্গে মারা গেছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র জুনায়েত হাসান (১০)। সে তার বড় ভাই ৬ষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষার্থী আরবি হাসানের হাত ধরে সকালে ঢুকেছিল স্কুল ক্যাম্পাসের চবুজ চত্বরে। দুপুরে স্কুল থেকে বের হয়েছে জুনায়েতের আগুনে পোড়া শরীর, পরে হাসপাতালে হয়েছে মৃত্যু। বড় ভাই আরবি সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাসায়। ছোট ভাইয়ের কবরে মাটি দিয়ে এখন অঝোর ধারায় কাঁদছে আরবি।

আরবি-জুনায়েতের বাসা তুরাগের নয়ানগর। তাদের বাবা আসলাম ব্যবসায়ী, মা ঝর্না আক্তার গৃহিনী।

দুর্ঘটনার পর স্কুল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়ে জুনায়েতকে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আদরের সন্তান হারিয়ে আসলাম-ঝর্না দম্পত্তি এখন দিশেহারা। বাকরুদ্ধ বাবা-মা যেন কাঁদতেও ভুলে গেছেন। ফ্যাল ফ্যাল চোখে শুধু তাকিয়ে থাকেন, আবার হঠাৎ বিলাপ করেন।

জুনায়েতের চাচা মুসতাকিম টাইমব অব বাংলাদেশকে জানান, সোমবার রাত সাড়ে দশটায় নামাজে জানাজা শেষে জুনায়েতকে নয়ানগর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। খেলার সাথী ভাইয়ের কবরে মাটি দিয়েছে আরবি। একদিকে ভাইয়ের জন্য শোক, অন্যদিকে আগুনের কুন্ডলি দেখে ফেরা আরবি এখন ট্রমার মাঝে। ভয়ে আঁতকে উঠছে মাঝে মাঝে।

আরও পড়ুন

নানা মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন জানান, আমার দুই নাতি উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। বড় নাতি আরবি হাসান পাশের একটি ভবনে থাকায় হালকা দদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধারের পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে যাই। ছোট নাতি জুনায়েত হাসানকে দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোসলেহ উদ্দিন অশ্রুভেজা কন্ঠে বলেন, ‘ছোট নাতি আমার বাসায় বেশিরভাগ সময় থাকতো, আমাকে বেশি পছন্দ করতো।’

তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই জুনায়েতের লাশ পরিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad