ছাঁটাই করা সরকারি কর্মীদের আবার চাকরিতে ডাকছেন ট্রাম্প

ছাঁটাই করা সরকারি কর্মীদের আবার চাকরিতে ডাকছেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইলন মাস্ক। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

সরকারি ব্যয় কমাতে শত শত ফেডারেল কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পর এবার তাদের আবার চাকরিতে ডেকেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যারা চাকরিতে পুনরায় যোগ দিতে চান তাদের সপ্তাহ শেষের আগেই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে তারা কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ)।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়েই ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর কোন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হবে, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নবগঠিত ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সির (ডিওজিই) দায়িত্ব তুলে দেন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিশ্ব ধনকুবের ইলন মাস্কের ওপর।

ইলন মাস্ক তখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইউএসএআইডিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাজারও কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান। বিনা কারণে চাকরি হারিয়ে সে সময় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন ফেডারেল কর্মীরা।

চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনবিরোধী আন্দোলনে নামেন ফেডারেল কর্মীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি

জিএসএ অবশ্য এই কর্মীদের ‘চাকরিচ্যুত’ বলতে নারাজ। বরং তারা বলছে, এই ফেডারেল কর্মীরা সাত মাস ধরে ‘বেতনসহ ছুটি’ (পেইড লিভ) নিয়েছিলেন। এই সাত মাসে তাদের কর্মস্থানের জন্য জিএসএ অফিস ভাড়াও পরিশোধ করেছে বলে দাবি করেছে।

তবে সংস্থার বর্তমান কিংবা অতীত কর্মী সংখ্যা, তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা অফিসের জন্য নেওয়া লিজ বাতিলের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে চাননি জিএসএ কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

সাবেক জিএসএ কর্মী চাদ বেকার এপিকে বলেন, ‘কর্মীর অভাবে এজেন্সির কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি সংস্থার মৌলিক কাজ চালানোর জন্যও পর্যাপ্ত কর্মী নেই। হেডকোয়ার্টারের ৭৯ শতাংশ, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ৬৫ শতাংশ এবং ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজার ৩৫ শতাংশ কর্মী কমে গেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অফিস ও কর্মক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১৯৪০-এ প্রতিষ্ঠিত হয় জিএসএ। বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতে জিএসএ’র অধীনে প্রায় ১২ হাজার কর্মী ছিলেন।

তবে ইলন মাস্ক ডিওজিই’র দায়িত্ব নিয়ে কেবল ছোট একটি কর্মীদলকে জিএসএ থেকে স্থানান্তর করেন এবং অনেককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান। ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই শুরুর পর প্রতিবাদ স্বরূপ অনেক অভিজ্ঞ কর্মীও স্বেচ্ছায় অবসর কিংবা চাকরি ছেড়ে দেন। মাস্ক চেয়েছিলেন এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভবন বিক্রি করে ট্রাম্প প্রশাসন বিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় করুক।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রশাসন থেকে হাজারও কর্মী ছাঁটাই করেন ইলন মাস্ক। ছবি: এপি/ইউএনবি

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের আভাস দিয়ে ইলন মাস্ক ডিওজিই থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবার আগের কর্মীদের ফেরত চাইল ট্রাম্প প্রশাসন। ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত কর্মীদের ফেরত নিয়েছে শ্রম বিভাগ ও ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad