ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা ‘কারচুপির’ অভিযোগে ভোটার তালিকা ও সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানালেও এতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বলছে, ভোট দেওয়া ভোটারদের তালিকা ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয়’ এবং নির্বাচনের সিসিটিভি ফুটেজ ‘প্রাইভেট ডকুমেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত। একারণে এসব প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
তাদের আরো যুক্তি, নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ব্যালট পেপার মুদ্রণের বিষয়ে তোলা অভিযোগের ‘কোনো ভিত্তি নেই’।
এর আগে ডাকসু ‘নির্বাচনের অনিয়ম’ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলা হলেও সে বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা।

সোমবার নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, ভোটার উপস্থিতির আগেই স্বাক্ষর প্রদান, নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ব্যালট সরবরাহ ও ছাপা, ব্যবহৃত ও ফেরত ব্যালটের সংখ্যা প্রকাশ না করা, যথাসময়ে আইডি না দেওয়ায় অনেক পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারা, অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং মার্কার না থাকায় বলপেনে ভোট দেওয়াসহ ১১ দফা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ।
মঙ্গলবার উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রকাশের আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করে বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাচ্ছে ইসি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সোমবার একটি ছাত্রসংগঠনের করা অভিযোগের জবাব এখন দেওয়া সমীচীন বলে মনে করছি। নির্বাচনের দিন ধারণ করা ও পরে সংরক্ষণ করা সিসিটিভি ফুটেজ কোন পাবলিক ডকুমেন্ট নয়। এসব সিসিটিভি ফুটেজ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাক্ষ্য বা ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

তবে, নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে প্রার্থী যথাযথ আবেদন করলে মনোনীত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত স্থানে তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভোট দেওয়া ভোটারদের তালিকা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তালিকা। ডাকসুর নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিতে এটির কপি প্রদানের কোন বিধান নেই।’ শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংরক্ষণের স্বার্থে’ এটি প্রকাশ করা যথাযথ মনে করে না কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কতগুলো অস্পষ্ট, সারবত্তাহীন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এসব গুরুত্বপূর্ণ তালিকার কপি দিতে সবিনয়ে অপারগতা প্রকাশ করছে।’
গোপনীয়তা রক্ষা একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে ব্যালট পেপার ছাপানোর প্রতিষ্ঠান/ভেন্ডরদের পরিচয় সচেতনভাবে গোপন রাখা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যালট পেপার ‘সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে’ ছাপানো হয়েছে, তাতে তা ‘অরক্ষিত থাকার কোনো সুযোগ নেই’।
নির্বাচনের আগে-পরে বা গণনার সময়ও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকসহ কেউই এ বিষয়ে কোন অভিযোগ উত্থাপন করেননি দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ব্যালট পেপারের মুদ্রণ নিয়ে এমন অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে না।’
সবগুলো আবেদন ও অভিযোগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং সময়মতো তার জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু ভোটে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮ পদের ২৩টিতে জয় পায়।


