ডাকসু: ব্যালট নিরাপত্তাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে ভিসির কাছে পরাজিত প্রার্থীরা

ডাকসু: ব্যালট নিরাপত্তাসহ নানা অভিযোগ নিয়ে ভিসির কাছে পরাজিত প্রার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসু নির্বাচনের পরাজিত প্রার্থীরা। ছবি: ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীরা ব্যালটের নিরাপত্তা ও ভোটার উপস্থিতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানান তারা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেশিরভাগ পদে জয়ী হয় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। শুরু থেকেই বিভিন্ন প্যানেলের পরাজিত প্রার্থীরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ঢাবি ভিসির সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ দেওয়া ভিপি প্রার্থীরা হলেন—ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আবদুল কাদের, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা এবং অপরাজেয় ৭১ অদম্য ২৪ প্যানেলের নাঈম হাসান হৃদয়।

এছাড়া জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারি হামিম ও এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদি মায়েদও উপস্থিত ছিলেন।

প্রার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নীলক্ষেতের একটি প্রেসে ব্যালটপত্র ছাপানো হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতির তালিকা প্রকাশ না করায় হতাশা জানান।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগ দেওয়া প্রার্থীরা। তবে কতদিনে সেই তদন্ত শেষ হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে।’

প্রার্থীদের প্রধান উদ্বেগ ব্যালটপত্রের নিরাপত্তা ও ভোটার উপস্থিতির স্বচ্ছতা ঘিরে। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দুই দিন আগে অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর নীলক্ষেতের একটি প্রেসে একই ধরনের ব্যালটপত্র ছাপানো হয়েছে বলে খবর মিলেছে।

আবিদুল ইসলাম খান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ এনে বলেন, ‘ব্যালটপত্র নিরাপত্তার মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত উদাসীন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ও দেশের জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানানো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।’

উমামা ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বহু আবেদন করা হলেও ভোটার উপস্থিতির তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন হওয়ার ১৫ দিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়নি।’

নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেন আবদুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তারা একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে, সমস্যার সমাধান করছে না। এই নীরবতা শিক্ষার্থীদের মনে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।’

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি, নীলক্ষেতে ব্যালটপত্র ছাপানো হয়নি। ভোটার উপস্থিতির তালিকা প্রকাশের বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নীলক্ষেতে ব্যালটপত্র ছাপানো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। কেউ ভুয়া ব্যালটপত্র তৈরি করে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad