ছিলেন দুবাইয়ে চীনা নাগরিকের প্রতিষ্ঠানে বিশ্বস্ত কর্মচারী। মালিকের কাছে তৈরি করেছিলেন আস্থা ও বিশ্বাস। সেই আস্থাকে পুঁজি করে কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন কক্সবাজারের চকরিয়ার যুবক আল আমিন সিরু। কিন্তু দেশে এসেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আল আমিন সিরু চকরিয়া উপজেলার পালাকাটা এলাকার ওসমান গনির ছেলে। গত ১১ মার্চ দুবাইয়ে আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে। ওই দিনই আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ তার মা শাহিনা আক্তারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার করেন সিরু।
সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে চীনা নাগরিক ঝং লিক্সিনের মালিকানাধীন এওলি ইলেকট্রনিকস ট্রেডিং এলএলসিতে চাকরিতে যোগ দেন আল আমিন। ধীরে ধীরে মালিকের আস্থা অর্জন করে মাসিক প্রায় ১ লাখ টাকা বেতনে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আল আমিনের কাছে মালিকের আস্থাই হয়ে ওঠে বড় ‘অস্ত্র’। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মালিক ঝং লিক্সিন নিজ দেশে (চীন) গেলে পুরো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এককভাবে হাতে পান আল আমিন। সুযোগ পেয়েই প্রতিষ্ঠানের গুদামে থাকা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস এক্সেসরিজ কম দামে বিক্রি করে দেন তিনি। পরে পরিকল্পিতভাবে দুবাই থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
পরে চীন থেকে ফিরে দুবাই গিয়ে পুরো ঘটনা জানতে পারেন ঝং লিক্সিন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় চকরিয়া থানায় আত্মসাতের মামলা করেন।
সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরেও চুরির একটি অভিযোগে অভিযুক্ত হন আল আমিন। সে সময় ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি কার্টুন চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেও মানবিক কারণে তাকে ক্ষমা করেছিলেন মালিক।
এ ছাড়াও পরিবারের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন সময় অর্থ সহায়তাও নিতেন আল আমিন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।
অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মঙ্গলবার কুমিল্লা থেকে প্রধান আসামি আল আমিন সিরুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চীনা নাগরিক ঝং লিক্সিন আত্মসাৎ করা ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দ্রুত সহযোগিতা পেলে তিনি আবারও দুবাই ফিরে তার ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারবেন।


