তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত। তাই আমরা আশা করছি আপিল বিভাগেই এই রায়ের বিষয় ও সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। বুধবার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। আমরা এরইমধ্যে রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন করেছি। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলেই আমরা আপিল দায়ের করা করবো। বিষয়টি আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি সংবিধানের ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিলেও এটি চূড়ান্ত নয়। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত, সেহেতু দ্রুতই আপিল দায়ের করা হবে।
সংশ্লিষ্ট দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার এই রায়টি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেয়। রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলা বিধি বাতিল করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, এর মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে পুরোপুরি পৃথক হলো বিচার বিভাগ।


