প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে চিকিৎসকদের মানবিক ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘সমাজে আমরা যারা সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থানে আছি, আমাদের দায়িত্ব হলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব করা। স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তব্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল নাগরিক তো আর প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের পরিচিত নন, তাই হাসপাতালের মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরতরা যদি যত্নশীল হন, তবে সাধারণ মানুষকে আর প্রভাবশালী কারও তদবিরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের আদলে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ইউনিট’ স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সারাদেশে এক লক্ষ হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুতই একটি সমন্বিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার লাঘবে ধাপে ধাপে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা’ চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং যানবাহন সমস্যার বিষয়ে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের আবাসন, মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে চিকিৎসকদেরও নিজ নিজ এলাকাকে মানবিক ও জবাবদিহিতামূলক সেবার মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিগত দিনগুলোতে শিশুদের হামের টিকাদানে ব্যর্থতাকে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন।
সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন চিকিৎসকের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


