ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম গন্তব্য এই জাতীয় উদ্যানে ঈদের দিন থেকে রোববার পর্যন্ত চার দিনে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৭ জন। এই চার দিনে প্রবেশ ফি বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উদ্যানের বিভিন্ন ট্রেইল, দর্শনীয় স্থান ও প্রবেশপথে ছিল দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে উদ্যান পরিদর্শনে আসেন।
পর্যটকদের অনেকে জানিয়েছেন, নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে তারা লাউয়াছড়ায় এসেছেন। ঘন সবুজ বন, পাখির কলতান, বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।
এদিকে পর্যটকদের উপচে পড়া আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উদ্যান এলাকার আশপাশের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতি স্থানীয় পর্যটন খাতকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছুটির দিনগুলোতে বাড়তি পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটকদের সচেতন করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রতিবছরই হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটির এবারের পরিসংখ্যানও সেই জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের এই আগমন ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।


