পাবনার চাটমোহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজনকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হরিপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি, ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবলুর রহমান (৪৮), ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (৪০), ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ (৫৭), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত হোসেনের (২৫) নাম পরিচয় জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রুপের মধ্যে বেশকিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি মিটিং করছিলেন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতরা হলেন- বাবলু গ্রুপের বাবলু, মিজান, মজিদসহ পাঁচজন এবং সিরাজ গ্রুপের রাহাত সহ তিনজন আহত হন। তাদের চাটমোহর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বাবলু রহমান বলেন, ‘আমরা দলীয় ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিজেদের এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটা সহ্য করতে পারছেন না ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে আমাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে আমাদের বাধা দিয়ে আসছেন সৃষ্টি করে আসছেন। তারা হরিপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাদক কারবারের সাথে জড়িত। তার প্রতিবাদ করায় তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের শান্তিপূর্ন সভায় সিরাজের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়।’
অন্যদিকে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ ঘটনার সময় হরিপুর বাজারেই ছিলাম না। পরে শুনেছি এলাকার কিছু দলীয় লোকের সাথে তাদের আগের ঝামেলার রেশ ধরে মারামারি হয়েছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এখন সবাই বিএনপি করে। তাদের মধ্যে আমার সমর্থক লোকজন থাকতে পারে।’
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারির বিষয়টি আমরা জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি ও আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


