কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আম কুড়াতে গিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলাৎকারের শিকার হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের গড়েরমাঠ এলাকার একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মো. ওয়াহেদ আলী (৫৫) বাগানের কেয়ারটেকার ও তারাপুর গ্রামে তার বাড়ি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে শিশুটি মাঠে ছাগল রাখতে যায়। পরে সে পাশের একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে ওয়াহেদ তাকে জোর করে বলাৎকার করে। শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরেরা সোমবার সন্ধ্যায় সালিসি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করার আশ্বাস দেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এখনো পুলিশের দ্বারস্থ হয়নি।
আইনি আশ্রয় না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে ভুক্তভোগী শিশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের গেট ভেতর থেকে আটকানো। শিশুটির মা বলেন, ‘আমরা এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। সন্ধ্যায় সালিসে আসেন, তখন বিস্তারিত জানতে পারবেন।’
অন্যদিকে, গড়েরমাঠ এলাকার ওই আমবাগানে পাহারারত অবস্থায় অভিযুক্ত ওয়াহেদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ও আম কুড়াতে আইছিল। তখন আমি ওকে জড়িয়ে ধরি। এরপর ও নিজেই প্যান্ট খুলে। সে সময় আমি এতুটুকু করিছিলাম, বেশিকিছু করিনি। আপনারা আর ঝামেলা করবেন না, সন্ধ্যায় সালিশ আছে; সমাধান হয়ে যাবে।’
অভিযুক্তের স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামীর বুদ্ধি কম এবং সালিসে সব ঠিক হয়ে যাবে।
তবে এ ধরনের স্পর্শকাতর অপরাধের ক্ষেত্রে সালিসের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে প্রথম জানলাম। এখন পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


