দেশের চামড়া শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত একটি নীতি সংলাপে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করেও যারা বর্তমানে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী বা সক্ষম নন, তাদের জন্য সম্মানজনক প্রস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খাতে জায়গা তৈরি হবে।
ভবিষ্যতে ট্যানারি ব্যবসায় শতভাগ পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চামড়া পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীর সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হবে, যোগ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে প্রক্রিয়াজাত করে জুতা, ব্যাগ ও উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
চামড়া শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে ২৫ হাজার ঘনমিটার সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে ১৪ থেকে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে নতুন বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবস্থাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বড় ট্যানারিগুলোর জন্য নিজস্ব শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং ছোট ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলবে। এ ছাড়া কঠিন বর্জ্য থেকে প্রাণীজ চর্বি, হাড়ের গুঁড়া ও অন্যান্য পণ্য তৈরির কারখানা স্থাপন করে সাভারকে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে।
সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও নকশা উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় উপ-হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে। নীতি সংলাপে আরও বক্তব্য দেন চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হানসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা।


