খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) বিদ্যমান ক্লাসরুম সংকটের মধ্যে নতুন করে আরও ১৬টি ডিসিপ্লিন চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি আরটিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম নতুন ডিসিপ্লিন চালুর কথা জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে চালু থাকা ২৯টি ডিসিপ্লিনে ক্লাসরুমের সংখ্যা মোট ৯৮টি। অনেক ডিসিপ্লিন মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাসরুম নিয়ে পাঠদান পরিচালনা করছে।
এর মধ্যে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিনে রয়েছে মাত্র একটি ক্লাসরুম। এগ্রোটেকনোলজি, এডুকেশন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি, হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, স্কাল্পচার ও সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনে রয়েছে দুটি করে ক্লাসরুম।
রসায়ন, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ইংরেজি, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ফার্মেসি, পদার্থবিজ্ঞান, প্রিন্টমেকিং ও সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনে রয়েছে তিনটি করে ক্লাসরুম।
বাংলা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থনীতি, গণিত ও পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনে চারটি করে; বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং, আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনে পাঁচটি করে; বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিসিপ্লিনে ছয়টি এবং সর্বোচ্চ সাতটি ক্লাসরুম রয়েছে আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনে।
অবকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো. রাইয়ান ওয়াহেদ চৌধুরী জানান, অবকাঠামো সংকট না মিটিয়ে নতুন ১৬টি ডিসিপ্লিন চালু করা হলে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হবে।
তবে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যানের অংশ এবং তাৎক্ষণিকভাবে চালু করা হচ্ছে না। পাইকগাছায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু হলে সেখানে চার থেকে পাঁচটি ডিসিপ্লিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
রেজাউল করিম বলেন, ‘বৈশ্বিক চাহিদা ও ভবিষ্যতের কর্মবাজারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ডিসিপ্লিন ও প্রোগ্রাম চালু করতে চাই।’
তিনি পরিষ্কার করেন, ১৬টি বিষয় খোলার জন্য কমিটি রিপোর্ট দিলেও এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ইউজিসি থেকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অন্যান্য সক্ষমতা বিবেচনা করে অনুমোদন পাওয়ার পরই নতুন ডিসিপ্লিনগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে।


