চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের লাগাতার মিথ্যাচার, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে সুপারিশের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া সিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটি।
মিছিলটি জিরো পয়েন্ট মোড় পেরিয়ে কাটাপাহাড় সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় আন্দোলনকারীরা ‘নাম দিয়েছে ইসলামি, করে শুধু ভণ্ডামি’, ‘গুপ্তদের ঠিকানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘গুপ্তদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি হলকে গুপ্তমুক্ত করতে হবে। সকল সুপারিশকৃত সিট বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে হলে আসন বণ্টন করতে হবে। অন্যথায় চবি ছাত্রদল প্রয়োজনে লাগাতার আন্দোলনে নামবে।’
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ৪৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করতে হবে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে যোগ্যদের চাকরি বহাল রাখা এবং অযোগ্যদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে, শুধু জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানান ছাত্রদলের এই নেতা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা এই ক্যাম্পাসকে নিজেদের জমিদারি ঘোষণা করেছিল। সূক্ষ্ম কৌশলে ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল দখল করেছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের শিবিরের কর্মী ও সাথী বানিয়ে বিভিন্ন হলে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিবির ও জামায়াতপন্থী হল প্রভোস্টরা সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


