চবির হলে সিসিটিভি বন্ধ রাখার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

চবির হলে সিসিটিভি বন্ধ রাখার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে স্থাপিত ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে স্থাপিত ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরী, এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও হল সংসদ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই মাস ধরে ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে হলে চুরি, ভাঙচুরসহ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হলের সামনে রাখা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত মালামালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা আলাওল হলের চারটি ব্লকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিছুদিন সচল থাকার পর বর্তমানে সবগুলো ক্যামেরাই বন্ধ রয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘হলের সিসিটিভি বন্ধ থাকায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। কিছুদিন আগেও শাহ আমানত হল থেকে অস্ত্র নিয়ে একজনকে বের হতে দেখেছি। এখন আমাদের হলে সিসিটিভি বন্ধ থাকায় বিষয়টি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু নাসিম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় হলের সামনে রাখা তার মোটরসাইকেলের সেলফের চাবি ভেঙে দেওয়া, সিটের কাভার ছিঁড়ে ফেলা এবং বডিতে আঁচড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, সিসিটিভি চালু থাকলে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন

এদিকে আলাওল হল সংসদের প্রতিনিধিরাও সিসিটিভি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হল সংসদের যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মাইন হানজালা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তারা ক্যামেরাগুলো চালু না করার কারণ জানতে চেয়েছেন। কিন্তু বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক নূরনবী হাসান বলেন, হলে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করায় সিসিটিভি সুরক্ষায় একটি যন্ত্রাংশ কেনার কথা বলা হয়েছিল। এ কারণ দেখিয়ে ক্যামেরাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন চাইলে ক্যামেরাগুলো চালু করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

হল সংসদ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই হলের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে নির্ধারিত সভা বয়কটের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

হলে সিসিটিভি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হকের সময়ে। আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক মিলনের নেতৃত্বে কাজটি শুরু হলেও পরে প্রভোস্ট পরিবর্তন হয়।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক মিলন বলেন, ‘কাজটি শুরু হওয়ার পরই আমি দুর্ঘটনার শিকার হই। পরবর্তী সময়ে এক মাস বা তারও বেশি সময় অফিসে কম সময় দিতে হয়েছে। এর মধ্যেই হলের প্রভোস্ট পরিবর্তন হয়। আমি কাজ শুরু করলেও পরে সব দায়িত্ব প্রভোস্ট স্যারের কাছে চলে যায়। এরপর আমি আর এসবের সঙ্গে ছিলাম না।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কল এড়িয়ে যান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর