চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও গুলি না চালানোর কারণ জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।
তিনি জানান, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্যই সন্ত্রাসীদের গুলির জবাবে গুলি চালায়নি র্যাব।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামে নিহত র্যাব সদস্য নায়েব সুবেদার মোতালেবের প্রথম জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
অভিযানে কেন র্যাব পাল্টা ব্যবস্থা নেয়নি; এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘র্যাবের রাইট অব প্রাইভেট ডিফেন্স বা আত্মরক্ষার অধিকার থাকার পরেও সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষতির কথা চিন্তা করে সদস্যরা গুলি চালায়নি। সেখানে গুলি চালালে সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।’
সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যায় র্যাব। সেখানে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে এক সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও দুজন।
এই অভিযান নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘অভিযানে কোনো পরিকল্পনাগত বা কৌশলগত ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। অভিযানে প্রায় ৫০ জনের বেশি জনবল থাকা সত্ত্বেও কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, সেটিও তদন্তের বিষয়।’
র্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুবেদার মোতালেব হত্যার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত র্যাব পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করবে।’
২০০৪ সালে র্যাব গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নায়েব সুবেদার মোতালেব সর্বশেষ সংযোজন।
নিহত মোতালেবের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব র্যাব নিয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান বাহিনীর মহাপরিচালক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকসহ অন্যরা।


