বিশেষ প্যারাস্যুট জাম্প অভিযানের মাধ্যমে একসঙ্গে সর্বাধিক ৫৪টি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। গিনেস কর্তৃপক্ষ রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘মোস্ট ফ্লাগস ফ্লোওন সিমুলটেনিয়াসলি হোয়াইল স্কাইডাইভিং (প্যারাস্যুট জাম্প)’ শিরোনামে এই রেকর্ডটি অর্জন করে টিম বাংলাদেশ।
বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ পেল এক অনন্য আন্তর্জাতিক সম্মান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ প্যারাস্যুট জাম্প অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশ একসঙ্গে সর্বাধিক ৫৪টি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও দক্ষ স্কাইডাইভারদের অংশগ্রহণে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন প্রশিক্ষিত প্যারাট্রুপাররা, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও ছিলেন।
এই ব্যতিক্রমী অভিযানে আকাশে ভেসে ওঠে লাল-সবুজের ৫৪টি জাতীয় পতাকা। পুরো উদ্যোগটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন (এএফডি)। এর মাধ্যমে দেশটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিশিয়াল টাইটেল হোল্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ম্যানেজমেন্ট টিম জানায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্মরণীয় করে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কাইডাইভারদের একত্র করে জাতীয় ঐক্য, সাহস ও সক্ষমতার একটি শক্তিশালী বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা।
এই অর্জন শুধু একটি বিশ্বরেকর্ড নয়; এটি বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। লাল-সবুজের এই গর্বিত মুহূর্ত ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন যারা
পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তোলা বাংলাদেশ দলে যারা ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
রাতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহান বিজয় দিবসে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে অংশ নেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, মো. নান্নু মিয়া, মো. মাহমুদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শিহাব শেখ, মো. আরিফুর রহমান, ফরহাদ আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম, মো. কামরুল হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আশিকুল ইসলাম, মো. সিরাজুল হক, মোহাম্মদ আলমগীর কবির,।
মো. রমজান আলী, মো. মনোয়ার হোসেন, মো. শরীফ আহমেদ, বশির আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম, মো. আবু সায়েম, মো. আবু হাসান চৌধুরী, ওমর ফারুক, মনিরুল ইসলাম, সৌরভ আকন্দ রাসেল, মো. মনিরুজ্জামান, এস. এম. রাজিবুল ইসলাম, মো. নুরুল হাসিব, মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, আরাফাত রহমান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. রুবেল হক, মো. সলীম আলী, মো. মহসিন, মো. বিন ইবনুল ইসলাম, এস. এম. এলমা আজম, মঈনুল ইসলাম।
মো. তানভীর হোসেন হিমেল, মো. সরোয়ার আলম খান, মিলন চন্দ্র বর্মণ, এস. কে. মো. নাসিম উদ্দিন, মো. সাকিম মাহমুদ, মো. তাইফুর রহমান, মুহাম্মদ রাসেল মাহমুদ, ইমরান আল জিহাদ, মো. মাহেদী হাসান, মো. আশিকুর রহমান, মো. শাহজাহান আলী, আলমগীর হোসেন, মো. জাকির মিয়া, রুবেল মিনিস, মো. নাসির উদ্দিন, মো. তৌফিকুর রহমান চাকলাদার।


