চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (চাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী চাকসুর মোট ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৪ জন।
রোববার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করে কমিশন। এছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য মাদকাসক্তি শনাক্ত পরীক্ষা বা ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। ১৬ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়ন নেওয়া যাবে এবং ১৭ তারিখ বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে।
চাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা। হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরমের জন্য ২০০ টাকা নগদ জমা দিয়ে রশিদসহ মনোনয়ন ফরম চাকসু অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনগুলোয় এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ সেপ্টেম্বর, আর প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। চাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, এরপরই শুরু হবে গণনা।
গত ১০ সেপ্টেম্বের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, চাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে অনুষদ ভবনগুলোয়। কোনো আবাসিক হলে এই নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র থাকবে না। কোন হলের শিক্ষার্থীরা কোন অনুষদ ভবনে ভোট দিতে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালের নির্বাচনে ভোট হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে। এবার অনুষদ ভবনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, তারা হলের চেয়ে অনুষদ ভবনের সঙ্গে বেশি পরিচিত।’
চাকসু নির্বাচনেরও ডাকসুর মতো ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘নিরাপত্তার ব্যাপারেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
এ সময় আচরণবিধি পড়ে শোনান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি প্রার্থী, ভোটার ও সাংবাদিকদের জন্য ১৭ দফা নির্দেশনা তুলে ধরেন।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখানে তা হয়নি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাত্র ছয় বার চাকসু নির্বাচনের আয়োজত করা গেছে। যার সবশেষটি হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।


