চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে অনুষদ ভবনগুলোয়। কোনো আবাসিক হলে এই নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র থাকবে না। কোন হলের শিক্ষার্থীরা কোন অনুষদ ভবনে ভোট দিতে যাবেন, সে সিদ্ধান্ত সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালের নির্বাচনে ভোট হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে। এবার অনুষদ ভবনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, তারা হলের চেয়ে অনুষদ ভবনের সঙ্গে বেশি পরিচিত।’
চাকসু নির্বাচনেরও ডাকসুর মতো ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘নিরাপত্তার ব্যাপারেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
সভায় আচরণবিধি পড়ে শোনান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি প্রার্থী, ভোটার ও সাংবাদিকদের জন্য ১৭ দফা নির্দেশনা তুলে ধরেন।
এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কমিশনার মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও শহীদ আবদুর রব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ বেগম ইসমত আরা হক প্রমুখ।
এর আগে সোমবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার ৮৬৬ জন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী—১৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে, জমা নেওয়া হবে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যাচাই-বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ সেপ্টেম্বর, আর প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
ভোট গ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত, এরপরই শুরু হবে গণনা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ছয়টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এগুলোতে পাঠদান হয় আটটি অনুষদ ভবনে। তবে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ক্লাস আলাদা ভবনে হয়।


