চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে নানা অভিযোগ জানিয়েছে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন শিবিরের নেতারা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।
ছাত্রশিবিরের প্রথম অভিযোগ চাকসু নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন কমিশনের অধিকাংশ সদস্য সরাসরি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ তৈরি হতে পারে না।’
‘কমিশনে দায়িত্বে থাকা প্রফেসর ড. জাহিদুর রহমান চৌধুরী প্রকাশ্যে শিবির ও এই মতাদর্শের সংগঠনের প্রতি বিদ্বেষ দেখিয়েছেন, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনকে পুনর্গঠন করার দাবি জানান তিনি।
আবার চাকসু নির্বাচনের আগে মানবিক বিবেচনায় অনেক শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তারা।
শিবির নেতারা মনে করেন, ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগটি একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তা না হলে এটা মনে হতে পারে যে, কেবল চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতেই এসব ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাকসুর গঠনতন্ত্রে সভাপতির একচ্ছত্র ক্ষমতা উপাচার্যের হাতে থাকায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
চাকসুতে প্রয়োজনীয় সম্পাদক পদ সংযোজনের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সহ-সম্পাদক পদ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিবির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোনো আলোচনা ছাড়াই ভোটার ও প্রার্থীর বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ সংগঠনকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
শিবির নেতাদের অভিযোগ, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী’দের বিচার না করায় তারা অবাধে ক্যাম্পাসে বিচরণ করছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসের জন্য লজ্জাজনক বলেও মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।


