দুর্গাপূজার ছুটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেলেও থেমে নেই আসন্ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। হল, ঝুপড়ি, স্টেশন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বাসাবাড়ি পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। লিখিত ইশতেহার এখনো প্রকাশ না হলেও মৌখিকভাবে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।
সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন অপবাদ ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা আমাদের দেখার পর নিজেরাই বুঝতে পেরেছে ছাত্রশিবির আসলে কারা। এই ভুল ভাঙতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগেনি।’
অন্যদিকে ছাত্রদল প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সমস্যা সরাসরি শুনে তাদের মতামত নিচ্ছি। সবচেয়ে বড় সমস্যা শাটল ট্রেন। দুর্বল ইঞ্জিন, নষ্ট ফ্যান-বাথরুম আর বগির সংকটে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। রাতে এই ট্রেন ছিন্নমূলদের আশ্রয়স্থল হয়ে যায়। নির্বাচিত হই বা না হই, শাটল ট্রেনকে নিরাপদ ও আধুনিক করার জন্য কাজ করে যাব।’
ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থী নুজহাত জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আবাসন সংকট। বর্তমানে পাঁচটি মেয়েদের হল থাকলেও আশেপাশে কোনো ডিসপেনসারি নেই। জরুরি সময়ে ওষুধ পাওয়া যায় না। বিবাহিত ছাত্রীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষায় সমস্যায় পড়তে হয়, শিশুর দেখাশোনার জায়গা থাকে না। এজন্য ডে কেয়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জোর দাবি জানাব।’
চাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনী আমেজ কাগজের পোস্টার বা ‘ঝুপড়ি’ বা শাটলে দেওয়া বক্তৃতায় আটকে নেই; সেটি ঢুকে পড়েছে শিক্ষার্থীদের হাতের মোবাইল স্ক্রিনে। ফেসবুকেও চলছে জোর প্রচারণা।
‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’, ৬২ হাজার সদস্যের ফেসবুক গ্রুপ। এটি এখন যেন অনলাইন নির্বাচনী মাঠ। ভোট চেয়ে এখানে কেউ ভিডিও দিচ্ছেন। কারও পোস্টার নজর কাড়ছে।
নানা কৌশল আর প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাজিমাত করছেন নারী প্রার্থীরা। আবাসিক হল, শাটল ট্রেন, কিংবা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ভোটারদের কাছে টানতে চেষ্টা করছেন তারা।
সংকট নিরসনের পাশাপাশি নিরাপদ ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা। তবে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক সাড়া পেলেও সাইবার বুলিং, স্লাটশেমিং, ট্যাগিং ও ভুয়া ফ্রেমিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, হল ও হোস্টেল সংসদে মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে লড়বেন ৪১৫ জন। হল সংসদে নির্বাচন করবেন ৪৯৩ জন। খসড়া ব্যালট নম্বরও প্রকাশ করেছে কমিশন।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী চাকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৮ জন। যেখানে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। অন্যদিকে, চবিতে আবাসন ব্যবস্থা আছে ৬ হাজার ৩২৮ জনের। ছেলেদের হলে আছে ৩ হাজার ৬৮৭টি আসন, মেয়েদের হলে আছে ২ হাজার ৬৪১টি আসন। সে হিসাবে মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক। বাকি ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই অনাবাসিক।
প্রার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন তিন দিন পেছানো হয়েছে। ১২ অক্টোবরের পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর ভোট হবে।


