চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার হয়নি ক্লাস-পরীক্ষা। ফলে শ্রেণিকক্ষগুলোয় ছিল না শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
তবে ভোটের আগের দিন বিকালে ক্যাম্পাসের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোয় দেখা মিলল প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের। মাঠে প্রচারের সময় শেষ হলেও আড্ডায় তো নিষেধাজ্ঞা নেই। আর এই আড্ডা-জমায়েতই ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি করেছে ভোটের আমেজ।
বিকাল গড়াতেই শহীদ মিনার, জিরো পয়েন্ট, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কলা অনুষদের সিঁড়ি ও বনপথে আড্ডা জমতে শুরু করে। এসব আড্ডার মূল বিষয় ছিল নির্বাচন। ছিল প্যানেল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও।
আবার সরাসরি প্রচার কাজ না করলেও প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও ও লাইভে নিজেদের কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট, ভিডিও এবং লাইভের মাধ্যমে নিজেদের প্যানেলের ভূমিকাসহ নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন প্রার্থীরা। অনেকেই সমর্থকদের সঙ্গে অনলাইয়ে মিটিং করে ভোট চাইছেন।
শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম রনি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্টে নিজের ব্যালট নম্বর শেয়ার করে বলেছেন, ক্যাম্পাসে যাতায়াতে শাটল ট্রেন ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন তার দলের অগ্রাধিকার।
নির্বাচিত হলে শাটল ট্রেনে বগির সংখ্যা বাড়ানো, নারী-পুরুষ আলাদা বগি চালু, নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ এবং শাটল বাস সার্ভিস সম্প্রসারণের মাধ্যমে শহর থেকে দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে কাজ করবেন।
ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র মজলিসের যৌথ প্যানেল ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাকিব মাহমুদ (রুমি) নিজের ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘নির্বাচিত হই বা না হই, আমি আপনাদের অধিকার রক্ষা করব এবং কাউকে তা থেকে বঞ্চিত হতে দেব না।’
অন্যদিকে বাম সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’ এর ভিপি পদপ্রার্থী ঋজু লক্ষ্মী লিখেছেন, ‘প্রশাসনের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষার্থীরা বারবার হতাশ হচ্ছে; হল দখল, হামলা-খুনের মতো ঘটনা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত করছে এবং ছাত্র রাজনীতির খাঁজে কলুষিত কর্মপন্থা রোধ করা প্রয়োজন।’
তাই তিনি বুধবার সবাইকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান।


