১৯৭৬ থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুদান দিয়ে আসছে সরকার। শুরুর দিকে অনিয়মিত থাকলেও নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে প্রতি বছরই অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
শুরুরা হযেছিল এক লাখ টাকা থেকে, এখন সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও যুক্ত হয়েছে অনুদানের তালিকায়।
অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও প্রতি বছর প্রচুর নবীন-প্রবীণ নির্মাতা এর জন্য আবেদন করেন।
গত ৮ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোছা. শারমিন আখতারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে অনুদানের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এবছর পূর্ণদৈর্ঘ্যে ১২টি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যে ২০টি চলচ্চিত্রকে সরকার অনুদান দেবে।
অনুদান পাওয়ার শর্তাবলী মোটামুটি আগের বছরের মতেই রয়েছে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় নিয়ে।
আবেদন জমার শেষ সময় ২৯ জানুয়ারি। অর্থাৎ আর মাত্র ২২ দিন সময় পাবেন প্রযোজকরা। এ সময়কে কম বলছেন তারা, এ নিয়ে আপত্তিও তাদের।
নবীন নির্মাতা সিকদার ডায়মন্ড এ বছর প্রামাণ্যচিত্রে আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘একটা আবেদনের সঙ্গে ১২ সেট কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এর শুধু চিত্রনাট্য নয়, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিভিন্ন মেম্বারশিপ, ট্রেড লাইসেন্সসহ অনেক কাগজ লাগে। বেশিরভাগ নির্মাতা বা প্রযোজকের এগুলো আগে থেকে গোছানো থাকে না। আমরা সবাই প্রজ্ঞাপনের পরই এগুলো গোছানো শুরু করি। ২২ দিন আসলে খুব কম সময় হয়ে গেছে। এখন এত স্বল্প সময়ের কারণে অনেক নির্মাতাই এ বছর আবেদন করতে পারবে না।’
টাইমস অব বাংলাদেশ বিগত ৪ অর্থ বছরের প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছে, প্রতি বছর সাধারণত আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় প্রতি বছরই ছিল ৩১ অক্টোবর।
অনেক বছর প্রযোজকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১-২ সপ্তাহ সময় বাড়ানোও হয়েছে। সব মিলিয়ে একজন নবীন প্রযোজক তার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য দুই-আড়াই মাস সময় পেতেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করলেন নির্মাতা খন্দকার সুমন। তিনি বলেন, ‘যারা আগে আবেদন করেছেন তারা হয়তো পারবে এ সময়ের মধ্যে জমা দিতে। কিন্তু নবীন নির্মাতাদের প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া উচিত ছিল। তারা তো জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে যাবে।’
তবে নির্মাতাদের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানারেন উপসচিব মোছা. শারমিন আখতার।
তিনি বলেন, ‘৯ জানুয়ারির প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও আমার দেশ পত্রিকায় এ সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।’
তারপরেও সময় অন্যবারের তুলনায় কম, এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুদানের নীতিমালায় তো কোথাও বলা নেই কতদিন সময় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আমরা অর্থবছরের মধ্যে কাজের সুবিধার্থে এভাবে দিয়েছি।’


