ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করব: জামায়াত আমির

ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করব: জামায়াত আমির
নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। বুধবার কুড়িগ্রামের সরকারি কলেজ মাঠে | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। মা-বোনদের আবাসস্থল, চলার পথ ও কর্মস্থলসহ সব জায়গায় নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করব।’

বুধবার কুড়িগ্রামের সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘যে দেশে নারীদের ওপর নির্যাতন হয়, সে দেশ আমার নয়। ওই দেশই আমার, যেখানে মা, বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা থাকবে। জাত-পাতের ভেদাভেদ না করে নারীদের সম্মান করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব এবং ইনশাল্লাহ সেই দায়িত্ব পালন করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে যুবক-যুবতী, মা-বোন সবাই কাজ পাবে এবং কেউ বেকার থাকবে না।’ কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু কৃষক নয়, মায়েদের গর্ভ থেকেই আগামীর প্রধানমন্ত্রীও বের হবে।’

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জেলার তিনটি নদী এখানকার মানুষের দুঃখের কারণ। বর্ষা এলেই মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ে, বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়।’ নদীগুলোকে হত্যা করে কঙ্কালে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে নদী শাসন ও নদীভাঙন রোধের নামে বরাদ্দ হওয়া বাজেট চোরেরা আত্মসাৎ করেছে।’ তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা। সুযোগ পেলে জনগণের টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘চার দিন আগে তার আইডি হ্যাক করে নানা ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রামকে দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত জেলা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় গেলে উন্নয়ন শুরু হবে কুড়িগ্রাম থেকেই। উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

জনসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে তিস্তার পাড় থেকেই উন্নয়ন শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৪, ১৮ ও ২৪-এর মতো নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না এবং ভোটাররা ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন।’

সভায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত হলে দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকে করতেও দেবেন না।’

কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অঞ্চলটিকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তারা উন্নয়ন ও নতুন কর্মক্ষেত্র চান।’

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘আমরা টেন্ডারবাজির বাংলাদেশ নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন চান।’

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের আহ্বান জানান।

জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহসেক্রেটারি আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া এবং খেলাফত মজলিসের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad