চবির হল সংসদ ভিপিকে পিটিয়ে বের করার হুমকি ছাত্রদলের

চবির হল সংসদ ভিপিকে পিটিয়ে বের করার হুমকি ছাত্রদলের
বাঁ থেকে অভিযোগকারী ভিপি রিপুল চাকমা এবং অভিযুক্ত ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপংকর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে ‘২৮ দিন পর হল থেকে পিটিয়ে বের করে দেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। সোমবার আনুমানিক রাত ৮টার দিকে অতীশ দীপংকর হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে।

রিপুল চাকমার অভিযোগ, হলে নতুন এক শিক্ষার্থী আসার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রোববার সন্ধ্যায় হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক এ.জি.এম. নিয়াজুদ্দিনকে অবহিত করেন। পরদিন সন্ধ্যায় হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ও হল সংসদের কোষাধ্যক্ষ নূরে আলম কক্ষটি পরিদর্শনে গেলে রিপুলসহ হল সংসদের কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে যান।

কক্ষে কথাবার্তার একপর্যায়ে হলের ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদকে সরাসরি প্রভোস্টকে না জানিয়ে শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে চেকিংয়ে আসার বিষয়ে আপত্তি জানান হয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রিপুলকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।

ঘটনাস্থলে ধারণ করা অডিও রেকর্ডে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার ওয়েটের বেশি তুমি বলে ফেলতেছো, কার সাথে কথা বলতেছো বুঝতেছো না….’

ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিনকে বলতে শুনা যায় ‘তোর পাওয়ার (ক্ষমতা) গুণে আর ২৮ দিন আছে.. ২৮ দিন পর হল থেকে পিটায়া বের করব আমি নাসিম যদি এই হলে থাকি।’

আরও পড়ুন

রিপুল চাকমা বলেন, ‘আমি চেকিং করার কেউ না। আমার কাজ হলো নিয়ম অনুযায়ী প্রভোস্ট স্যারদের বিষয়টি জানানো। স্যাররা চেকিংয়ে এসে আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন বলেই আমরা সঙ্গে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি জানানোয় উল্টো আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার পর হলের আবাসিক শিক্ষক অন্যান্য শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল টিম ও চাকসু নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি জানান। তারা হলে এসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাসিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে নাসিমের ফোন বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক মো. নূরে আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু রুমে যারা থাকে তারা জানায় অবৈধ কেউ নেই। যারা ছিল,তারা অতিথি। ঘুরার জন্য এসেছিল।’

এ ঘটনায় সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে, অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর