চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনার সময় শাহ আমানত হল থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বের হওয়া এক শিক্ষার্থীর সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার বিকাল থেকে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হলেও অস্ত্রধারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফুটেজে অস্ত্র সদৃশ বস্তু হাতে এক শিক্ষার্থীর চলাচলের দৃশ্য দেখা গেছে।
গত রোববার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে তবলা চাওয়া নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা মাঠ থেকে ক্যাম্পাসে গড়ায় ওই দিন রাতে।
ওই সময় শাহ আমানত হল থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক শিক্ষার্থীর বের হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে চাকসু ও হল সংসদের চাপে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো অস্ত্রধারী ব্যক্তি আবাসিক শিক্ষার্থী হলে তাকে অবিলম্বে হল থেকে বহিষ্কার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ও দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নির্মূলে সব আবাসিক হলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
এদিকে, ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’


