চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কমিশনভোগীদের অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার অধিকার নেই বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সন্দেহজনক তড়িঘড়ি, অনিয়ম ও গোপনীয়তার মাধ্যমে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে আনু মুহাম্মদ, অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ, সীমা দত্ত ও ডা. হারুন উর রশীদ।
তারা দাবি করে, একইভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লালদিয়া ও পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে বন্দর ব্যবহারকারীদের কোনোভাবে যুক্ত রাখা হয়নি। নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়েও একই ধরনের অস্বচ্ছতা ও তাড়াহুড়োর অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, দেশের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কেন এভাবে দ্রুততা, গোপনীয়তা এবং অনিয়মের সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংগঠনটি জানায়, বিশ্বব্যাংকের সহায়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বর্তমানে সরকারের পরামর্শক হিসেবে পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনালের কনসেশন চুক্তি তৈরিতে কাজ করছে। তাদেরই পরামর্শে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর টার্মিনালগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই পরামর্শে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির প্রশ্ন—চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আইএফসির মতামতই কেন বিবেচনা করা হবে, দেশের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীদের মতামত কেন অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক ও আইএফসির বিভিন্ন দেশে জনস্বার্থবিরোধী ভূমিকার নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলিভিয়া, ঘানা ও ফিলিপাইনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বেসরকারিকরণে আইএফসির পরামর্শে সৃষ্ট সংকট ও জনভোগান্তির ঘটনা তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট, অথচ বন্দর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অতিরিক্ত সক্রিয়তা প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি দাবি করে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ও এ ধরনের উদ্যোগে কমিশনভোগীদের প্রভাব ছিল এবং বর্তমানেও একই গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীত।
বন্দর টার্মিনালের মতো কৌশলগত সম্পদ নিয়ে যেকোনো চুক্তি স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে হবে, শর্তাবলি প্রকাশ করতে হবে এবং সর্বজনের মতামত নিতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারকে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কমিশনভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের দিকে মনোযোগী হতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।


