চট্টগ্রামে ৬ লাখের বেশি পোশাকশ্রমিকের মুখে স্বস্তির হাসি

চট্টগ্রামে ৬ লাখের বেশি পোশাকশ্রমিকের মুখে স্বস্তির হাসি
তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিক। ছবি: অনিক রহমান
Advertisement
Advertisement

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে স্বস্তি ও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। সময়মতো বেতন ও ঈদ বোনাস পেয়ে শ্রমিকরা আনন্দঘন পরিবেশে নিজ নিজ গ্রামে ফিরছেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের রপ্তানিমুখী সদস্যভুক্ত শতভাগ কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান জানান, বিজিএমইএ’র অধীন তালিকাভুক্ত ৩৪২টি কারখানাই ছুটির আগেই শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করেছে।

বিশ্ববাজারে অর্ডার কমে যাওয়া এবং আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কারখানা মালিকরা সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছেন, যা শিল্পখাতে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

সেলিম রহমান বলেন, সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি, সহজ ঋণ সুবিধা এবং ২ হাগার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট কাটাতে সহায়তা করেছে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসেই সব কারখানায় বেতন-বোনাস দেওয়া হয়েছে, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ দেখা যায়নি। ‘শ্রমিকরা এখন খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন,’ যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

শ্রমিক নেতারাও পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার (টিইউসি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, এ বছর বেতন-বোনাস ইস্যুতে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন না হওয়া খাতটির জন্য ইতিবাচক দিক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি এবং সেগুলোও দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, ১৯ মার্চ পর্যন্ত জেলা ও মহানগর এলাকার প্রায় সব পোশাক শ্রমিকই ঈদ বোনাস পেয়েছেন এবং অধিকাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে। মাত্র দুটি কারখানায় মালিক-শ্রমিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঈদের পর বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রায় ৫৭০টি আরএমজি কারখানা এবং ১ হাজার ১০৬টি নন-আরএমজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ ২১ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। ঈদের আগে যে কয়েকটি ছোটখাটো বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলো মূলত নন-আরএমজি খাতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত মীমাংসা করা হয়েছে।

এদিকে, বায়েজিদ এলাকায় একটি কারখানার বকেয়া বেতন পরিশোধে প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নির্দেশনায় জেপি সনেট লিমিটেড নামের কারখানাটি প্রায় ১৬ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সেই অর্থ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়, ফলে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

কারখানার এক প্রতিনিধি জানান, অন্যান্য উপায়ে অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad