চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়া ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) গুলিতে নিহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, নিহত সারোয়ার একজন চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সারোয়ারের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সারওয়ারের সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের বিরোধ ছিল। পুলিশের ধারণা, এ বিরোধের জেরে সরোয়ারকে গুলি করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির দায়ী। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাগরিবের নামাজের পর বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ চালিতাতলী খোন্দকারপাড়া এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন। সে সময় সরোয়ার হোসেন বাবলা গণসংযোগে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে মাথায় গুলি করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর পায়ে গুলি লাগে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুল কাদের গুলিবিদ্ধ হন।
এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।
এর আগে গত ৩০ মার্চ, নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
ওই ঘটনায় গাড়িতে থাকা বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নামে দুজন নিহত হন। তবে সরোয়ার বেঁচে যান। পরে গ্রেপ্তারদের জবানবন্দিতে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে সরোয়ারের ওপর গুলি চালানো হয়।
নিহত সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন। তার বিয়েতে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশ ও মিছিলে যোগ দিতে শুরু করেন।


