চক্রান্তকারীরা দেশের মানুষের ধর্মীয় সম্প্রীতি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন ভেঙে দিতে নানা ধরনের শক্তি ও চক্রান্তকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সম্প্রীতির বন্ধন কোনোভাবেই নষ্ট হবে না। দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন কোনো চক্রান্তেই ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয় এবং তা যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে আছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতিসত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন অপশক্তি এবং চক্রান্তকারীরা আমাদের ভ্রাতৃত্বের এই অটুট বন্ধন ও আমাদের মেলবন্ধনকে ধ্বংস করার জন্য, এটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
তবে এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশের মানুষ সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ একসঙ্গে কাজ করে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্প্রীতি রক্ষা করে।
‘আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে, ঈদ-মিলাদুন্নবীতে প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করি এবং প্রত্যেকেই সেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করি,’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, “এই সম্প্রীতির অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। এই বন্ধন একসঙ্গে চর্চিত হবে, লালিত হবে। এই কারণেই আমাদের যে জাতীয় দর্শন—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেইটাই আমরা ধারণ করব। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই জাতিসত্তার একটি দার্শনিক রূপ দিয়েছেন। যা হলো ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। এই দর্শনের কাঠামোর মধ্যে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের সমান জায়গা রয়েছে।”
তার ভাষ্য, ‘প্রত্যেকেই এখানে আসন পেতে পারে। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা আছে। প্রত্যেকেই নিজে গর্ব ভরে বলতে পারে যে আমরা বাংলাদেশি। সেই ধারাভিকতায় আমরা যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে একই সমাজে, একই গ্রামে, একই মহল্লায় বসবাস করেছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছেন। হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অনেকে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং বিএনপিতে গোটা জাতির নেতৃত্ব দেন। তাদের হয়তো একটা ধর্মীয় পরিচয় আছে, যা বড় বিষয় নয়। দলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কীর্তিমান সংগঠক, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম প্রসঙ্গে এই বিএনপি নেতা বলেন, প্রত্যেকটি উপাসনালয়ে মানুষ আত্মিক মুক্তির জন্য যায়। এসব দেবালয় ও উপাসনালয় যাতে সমৃদ্ধ ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পূজারি ও ভক্তরা সেখানে গিয়ে সুন্দরভাবে প্রার্থনা ও আরাধনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ট্রাস্ট কাজ করবে। ট্রাস্টের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তি। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন এবং পরিচালনা করবেন—এই উদ্দেশ্যেই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।
‘সেই লক্ষ্যে যে তিনটি সম্প্রদায়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কামনা করি, এই ট্রাস্ট স্ব স্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যেকটি বিষয়, তাদের নিজস্ব যে সমস্ত করণীয় আছে, সে করণীয়গুলো তারা করবেন, তারা সেটি দেখবেন এবং সেটিকে পূর্ণতা দান করার জন্য সচেষ্ট থাকবেন,’ যোগ করেন তিনি।


