চট্টগ্রামের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং রাজনৈতিক কর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজন আবুল মোমেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শক্তিশালী দেশগুলো বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্য কাজ করছে। এই পরাশক্তিগুলো আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য তিনি জনগণকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ও বিদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম। এই বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ দুটি কেন্দ্র হলো এনসিটি এবং সিসিটি। তাই এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক হওয়া উচিত।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ইজারা প্রক্রিয়াটি অপ্রয়োজনীয় তাড়াহুড়ো করে চালানো হচ্ছে। এতে পুরো বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, ডক শ্রমিক এবং নাগরিক সমাজের সাথে কোনো আলোচনা না করে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ভুল পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সমাবেশে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি হাতে ছেড়ে না দিয়ে এই ইজারা প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানায় বন্দর রক্ষা কমিটি।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহা এবং স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান।


