চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে এক যুবদল কর্মীর হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনার জেরে পাল্টা হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কোতোয়ালির বলুয়ার দিঘীরপাড় ও বাকলিয়ার বউ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত যুবদল কর্মীর নাম মিনহাজ। তিনি স্থানীয় মাস্টারপুল এলাকার মৃত মিজানের ছেলে এবং জাকির গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অপর আহত ব্যক্তি আরমান প্রকাশ এঞ্জেল। তিনি বউ বাজার এলাকার মৃত রফিকের ছেলে এবং সবুজ গ্রুপের অনুসারী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে বলুয়ার দিঘীরপাড় এলাকা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে মিনহাজের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার একটি হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মিনহাজের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ বাকলিয়ার বউ বাজার আহমদুর রহমান সড়কের মজিদ সওদাগরের মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালায় তার অনুসারীরা।
এ সময় আরমান প্রকাশ এঞ্জেলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। তবে তিনি একটি বাড়িতে ঢুকে প্রাণে রক্ষা পান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বলুয়ার দিঘীরপাড় মাস্টারপুল সড়কে এখনো রক্তের দাগ রয়েছে। বউ বাজার এলাকার কয়েকটি বসতবাড়ির গেটেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বলুয়ার দিঘী এলাকা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি ও বাকলিয়া–এই দুই থানার আওতায় পড়ায় উভয় থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল বাকলিয়া থানার মিয়া খান নগর ময়দার মিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন আহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। একই ঘটনায় রোববার রাতে শওকত নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।


