চট্টগ্রামের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
আদালক সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট করলে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর রুল জারি করে আদালত। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় বেশকিছু ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধও করা হয়।
তবে, গত বছর রিটকারী পক্ষ একটি আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি আদেশ বাস্তবায়ন করে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না করা এবং লোহাগড়া ও সাতকানিয়ায় পুনরায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম শুরু সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি রিটকারী সম্পূরক আবেদন করে। এতে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এ আদেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার ও লোহাগড়ার ইউএনওসহ আটজনকে নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে জানান, সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে ইট পোড়ানোর মৌসুমে অধিকাংশ অবৈধ ইটভাটায় মালিকরা কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে চট্টগ্রামে পরিবেশের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কিন্তু ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।


