দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় হংকং সাংহাই মানজালা টেক্সটাইল লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, মামলার তদন্ত চলমান থাকায় দুদকের কর্মকর্তাদের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্যাহ প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া নাম ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১০টি এফডিআর হিসাব খোলেন এবং এসব হিসাবে চার কোটি ১৪ লাখ টাকা জমা করেন। পরে হিসাব বিকৃতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা সুদ নেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এ ছাড়াও জাফর উল্যাহের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।
দুদকের উপ-পরিচালক শারিকা ইসলাম আদালতে জানান, আসামি বর্তমানে অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় জেলহাজতে আটক। তাই তদন্তের স্বার্থে এ মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশানের বাসা থেকে জাফর উল্যাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কাজী জাফর উল্যাহ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।


