তীব্র গ্যাস সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থা। শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত সিএনজি, হাইয়েস ও বাস চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ ২৪ ঘণ্টা, কেউ ২৭, আবার কেউ ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে প্রহর গুনছেন। গ্যাসের আসায় অনেক চালককে রাত কাটাতে হচ্ছে নিজ নিজ গাড়ির ভেতরেই।
বৃহস্পতিবার শহরের আলবাট্রস এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য শতাধিক যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে রয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকায় শুধু গাড়ির চাকা নয়, তাদের জীবিকার চাকাও থমকে গেছে। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন খেটে খাওয়া এই পরিবহন শ্রমিকেরা।
সিএনজি চালক মিঠু বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় সিএনজি চালাতে পারছি না। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে আমরা চালকরা লুডু খেলছি। আমরা অসহায় শ্রমিক। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক।’
আরেক চালক গিয়াস আফসোস করে বলেন, ‘গাড়ি চালালে আয় হয়, বন্ধ থাকলে আয়ও বন্ধ। এত ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরও যদি গ্যাস না পাই, তবে সংসার চালাব কীভাবে!’
ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. পলাশ জানান, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। লাইন থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া মাত্রই গ্রাহকদের তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
গ্যাস সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাধারণ গণপরিবহনেও। বিভিন্ন রুটে সিএনজি ও থ্রি-হুইলারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ‘গ্যাস সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অতিদ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও শত শত চালক এখনো ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ। দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে গণপরিবহন ব্যবস্থা–এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ যাত্রীদের।


