গোয়ালিনী ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডারের নমুনায় মান-অনিয়ম ধরা পড়ার ঘটনায় মালিক প্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন আলম স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বুধবার ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
বিচারক নুসরাত সাহারা বীথির আদালত একই সঙ্গে কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছে, পরীক্ষায় মানহীন প্রমাণিত ওই ব্যাচের সব পণ্য দ্রুত বাজার থেকে সংগ্রহ করে অপসারণ করতে হবে এবং এ নির্দেশ পরিপালন করে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
অক্টোবরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের উদ্যোগে করা ল্যাবরেটরি টেস্টে দেখা যায়, ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার’-এর নমুনায় দুগ্ধ প্রোটিন পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দমমিক ৫ শতাংশ, যেখানে ন্যূনতম মান ৩৪ শতাংশ।
পাশাপাশি দুগ্ধ চর্বি থাকার কথা ৪২ শতাংশের বেশি, কিন্তু নমুনায় পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা পণ্যের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কামরুল হাসান গত অক্টোবর মাসে এই নমুনা সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়ের করেন।
একই ধরনের ঘটনায় সম্প্রতি গোয়ালিনী ছাড়াও মেঘনা গ্রুপের চিনি এবং বহুজাতিক নেসলের কিটক্যাট চকলেট ওয়েফারের মানে সমস্যা পাওয়ায় দুটো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। তারা জামিন পান।
তবে নমুনা কিটক্যাট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনকে কারাগারে যেতে হয়। অবশ্য, স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করলে আদালত বুধবার তাকে জামিন দেয়।


