ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় গুঁড়িয়ে গেল গাজার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভবন। বিবিসি জানিয়েছে, শহরের দ্বিতীয় উঁচু টাওয়ারটি ছিল পরপর দুই দিন ধরে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এতে ভবনটি ধ্বংস হতে দেখা যাচ্ছে। তিনি এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমরা (আক্রমণ) চালিয়ে যাচ্ছি।’
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায় যে, বিধ্বস্ত ‘সুসি টাওয়ারটি’ সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী হামাসের ব্যবহৃত ঘাঁটি ছিল। তবে হামাসের পক্ষ থেকে বরাবরই তা অস্বীকার করা হচ্ছে।
টাইমস অব ইসলায়েল জানিয়েছে, হামাসের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, গত এক দিনে ইসরায়েলি সেনার (আইডিএফ) হামলায় অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া সেখানে অনাহারে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবারের ওই হামলার আগে, ইসরায়েল সেনারা শহরের বাসিন্দাদের নতুন ‘মানবিক এলাকায়’ চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিফলেট দিয়েছিল।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, আইডিএফ-এর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই এক পোস্টে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার আহ্বান।
আইডিএফ বারবার সাধারণ নাগরিকদের স্থানান্তরের জন্য উৎসাহিত করেছে। তারা বলছে, সেখানে চিকিৎসা সেবা, পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হবে।
তবে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, যে আল-মাওয়াসি শরনার্থী শিবিরগুলো অতিরিক্ত জনবহুল এবং নিরাপদ নয়। এছাড়া দক্ষিণের হাসপাতালগুলোতে আর রোগী ধারণ করার মতো অবস্থা নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মঙ্গলবার আল-মাওয়াসিতে পানির জন্য অপেক্ষারত পাঁচটি শিশু নিহত হয়।
আইডিএফ দাবি করেছে, তারা নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘জনগণকে আগাম সতর্কতা’ জানানো এরই অংশ।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষ এখনো গাজা শহরে রয়েছে; গত মাসে সেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে এই হামলা চলতে থাকলে একটি ভয়াবহ ‘দুর্যোগ’ নেমে আসবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন এক আক্রমণে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে বন্দী করা হয়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৩ হাজার ৭৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, এ পর্যন্ত ৩৬৭ জন অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন।


